গদ্য
ফকির ইলিয়াস
আত্মবিশ্বাসের পাশে দাঁড়াও ,বাংলাদেশ
মহান বিজয়ের মাস। একটি শোক সংবাদ মনটা খুব বিষণ্ন করে গেল। কমরেড বরুণ রায় পরলোকগমন করেছেন। রাজনীতিবিদ প্রসূন কান্তি রায়। সুনামগঞ্জের জমিদার পরিবারের সন্তান। না তার জীবনের কোন জৌলুস ছিল না। বাংলাদেশে গণমানুষের রাজনীতির যে মুখচ্ছবি, তিনি ছিলেন তার সরল প্রতীক। কোন চাওয়া-পাওয়া ছিল না তার। মনে পড়ছে, তার সান্নিধ্যে বসে কথা বলার দিনগুলোর কথা। বড় হাসিখুশি ছিলেন বরুণ দা। বলতেন, 'আমি তো ভাটি অঞ্চলের মানুষ। মনটা আমার হাওরের মতোই সাদাসিধে'। বাংলাদেশে যে ক'জন নিঃস্বার্থ রাজনীতিবিদ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে গেছেন, বরুণ রায় তাদের অন্যতম। স্বপ্ন তার একটাই ছিল, মেহনতী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। সুদিন আসবে বাংলাদেশের। যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন হয়েছিল এই দেশ যে প্রত্যয় নিয়ে আমরা অর্জন করেছিলাম বিজয়। বরুণ রায় দেহত্যাগ করেছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন থেকে গেছে এই দেশের প্রতিটি মজলুম মানুষের প্রাণে প্রাণে। তার আদর্শ কোটি তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বরুণ রায় যেদিন চিরবিদায় নিয়েছেন, সেদিনই ৮ ডিসেম্বর ২০০৯ বাংলাদেশে ঘটে গেছে ভোগবাদী রাজনীতির একটি বিবর্তনধর্মী ঘটনা। হ্যাঁ, তা বিবর্তনই। আর তা হচ্ছে বংশ পরম্পরায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রাখার সম্মেলন সনদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল 'বিএনপি'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। সাবেক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তিনি। বর্তমানে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। বিএনপি'র কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি একটি ভিডিও ভাষণও দিয়েছেন। সেখানে তিনি 'যোগ্য নেতৃত্ব' নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। কাউন্সিলররা শেষ পর্যন্ত তার কথা শুনে 'যোগ্য নেতৃত্ব' নির্বাচন করেছেন। বিএনপি'র দ্বিতীয় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করেছেন তাকে। আগামী ক'বছরের মধ্যে তারেক রহমান যে বিএনপি'র চেয়ারপারসন হচ্ছেন, তা সময়ের ব্যাপার মাত্র। হ্যাঁ, তিনি এতদিন নেপথ্য নায়ক ছিলেন। এখন সামনে আসছেন। বিদেশ থেকে ফিরে আসবেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। সেটাও প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপি বেগম খালেদা জিয়াকেই সর্বময় ক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করবেন। মোটকথা এই জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের অভিষেক হয়েছে, সেটাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাওয়া। বিএনপি'র জাতীয় কাউন্সিলে অন্যতম অতিথি ছিলেন একাত্তরের ঘাতকদের নেতা, আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী। তাকে বেশ খোশমেজাজেই দেখা গেছে কাউন্সিলে। নিজামী-মুজাহিদের সঙ্গে তারেক রহমানের বেশ সখ্য ছিল, জাতি ২০০২-২০০৬ সালের বিভিন্ন জনসভায় দেখেছে। তারা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশে রাজনীতি করেন। যেমনটি রাজাকার শাহ আজিজ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খান এ সবুরদের পাশে রেখে রাজনীতি করতেন জিয়াউর রহমান।
দুই.
সেই মাওলানা নিজামী আরেকটি 'জোশে'র বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীর নজর কেড়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধারাধীদের বিচার করা নাকি ইসলাম বিরোধী।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজামী মূলত নরহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনকে জায়েজ করে নেয়ার ধৃষ্টতা দেখালেন মতিউর রহমান নিজামী। আমার জানতে ইচ্ছে করে, কোন ইসলাম ধর্মের কথা বলছেন নিজামী? তা যদি মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর প্রচারিত ইসলাম ধর্ম হয়ে থাকে তবে সেই ইসলাম ধর্ম তো কখনই নরহত্যা, গণহত্যাকে কবুল করেনি। বরং মহানবী (সাঃ) এর আদর্শ থেকে আমরা জেনেছি, কেউ যদি অন্যায়ভাবে তোমাকে আক্রমণ করে, তবে তার হাত গুঁড়িয়ে দাও।
নিজামী বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের এভাবে মিথ্যা বলে প্রতারিত করতে চাইছেন কেন? এসব আবোল-তাবোল বলার মাধ্যমে তারা যে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন তা কি ভুলে গেছেন নিজামী?
একাত্তরে রাজাকার আলবদর বাহিনী বাংলাদেশে কি করেছে, তা দেশবাসী ভুলে যাননি। তারা ভুলে যাননি, সেই হীন চক্রান্তকারীদের কথা- যারা ছড়িয়ে দিয়েছিল বিভীষিকাময় সময়ের প্রবাহ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি চরম কঠিন সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আরেকটি বিজয় দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। যে সময়ে ষড়যন্ত্র চলছে ঘরে বাইরে। দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থামিয়ে দেয়ার আন্তর্জাতিক চাপ, বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের উস্কানি শঙ্কিত করে তুলেছে বাংলাদেশের প্রান্ত জনপদ।
সম্প্রতি ভারতের উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়াকে গ্রেফতার নিয়ে নানা কথা আসছে মিডিয়ায়। উলফার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাকে বাংলাদেশে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভারত সফরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক তখনই এমন একটি ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে কি ভারতের কাছ থেকে কোন আনুকূল্য পাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার এমনটি করেছে? ইতোমধ্যে ভারতের উগ্রবাদী গ্রুপগুলো বাংলাদেশের সরকারকে নানা হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধী-বন্দিবিনিময় চুক্তি সম্পন্ন করে তারপরই 'অপরাধী বিনিময়' কাজটি করা যেত। বাংলাদেশ সে পর্যন্ত অপেক্ষা করল না কেন?
বাংলাদেশের বেশকিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী, অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে অথবা ভারতের কারাগারে রয়েছে বলে আমরা সংবাদ দেখছি। কই, ভারত তো তাড়াহুড়ো করে এমন কোন সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি। তবে কি বাংলাদেশের সরকার কোন ভুল করছে? ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের মানুষের কাছে খোলাসা করা দরকার। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নানা দিক থেকেই চাপের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই ক্ষমতাসীনদের সবসময় থাকতে হবে গণমানুষের আত্মবিশ্বাসের কাছাকাছি। কারণ এর বিকল্প কোন শক্তি নেই। মহান বিজয়ের মাসে সঠিক পথ চলার প্রত্যয়ই দিতে পারে আগামী দিনের উজ্জ্বল নির্দেশনা।
তিন
ঘাতকরা এই দেশে এখনও সক্রিয়। তারা চেয়েছিল একটি জাতিসত্তার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে। তাদের সামনে ছিল একটা গোপন পরিকল্পনা। বাঙালী জাতি যেন মেরুদ্ন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে । সেই লক্ষ্যে এসব ঘাতকরা সহস্রাধিক বুদ্ধিজীবিকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। খুবই বেদনার কথা , এই হত্যাকান্ডের সুবিচার আজ পর্যন্ত হয়নি । আমাদের মহান বিজয়ের পর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনেক স্বজন , হত্যার বিচার দাবি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। অনেকের দায়ের করা মামলার বিচারও শুরু হয়েছিল। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সরকার গঠন করে দালাল আইন পুরোপুরি বাতিল করার পর সে বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায়। ইতোমধ্যেই বিচারে যাদের শাস্তি হয়েছিল তারাও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। পরম্পরায় সেসব খুনিরা বিএনপি সরকারের অংশীদার হয়ে ক্ষমতার ভাগ পায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্বজনদের সেই দাবি এভাবেই চাপা পড়ে যায়। ২০০২ সালে পুলিশের সিআইডি বিভাগ, শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে 'ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) এক্ট-১৯৭৩' অনুসারে মামলা হতে পারে কি না, তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী তা ফাইলচাপা দিয়ে রাখেন। এখনও সে চিঠির ব্যাপারে কোন নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের কাছে আসেনি বলে জানা যাচ্ছে।বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু এ ব্যাপারে বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিচারের ব্যাপারে নতুন করে মামলা করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখছে সরকার। তিনি বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে যারা দেশকে মেধাশূন্য করেছে এবং যারা বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার অবশ্যই হবে, বর্তমান সরকারের আমলেই হবে। এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিচার করতে সরকারকে যদি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এক্টে মামলা করতে হয় তবে তাও করা হবে।
এসব কথার বাণী শহীদ পরিবারের সসদ্যরা শোনেই যাচ্ছেন।
আর কত শোনবে আশ্বাস এই বাংলাদেশ ?
কেন শহীদ বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচার হবে না ??
আত্মবিশ্বাসের পাশে দাঁড়াও ,বাংলাদেশ
মহান বিজয়ের মাস। একটি শোক সংবাদ মনটা খুব বিষণ্ন করে গেল। কমরেড বরুণ রায় পরলোকগমন করেছেন। রাজনীতিবিদ প্রসূন কান্তি রায়। সুনামগঞ্জের জমিদার পরিবারের সন্তান। না তার জীবনের কোন জৌলুস ছিল না। বাংলাদেশে গণমানুষের রাজনীতির যে মুখচ্ছবি, তিনি ছিলেন তার সরল প্রতীক। কোন চাওয়া-পাওয়া ছিল না তার। মনে পড়ছে, তার সান্নিধ্যে বসে কথা বলার দিনগুলোর কথা। বড় হাসিখুশি ছিলেন বরুণ দা। বলতেন, 'আমি তো ভাটি অঞ্চলের মানুষ। মনটা আমার হাওরের মতোই সাদাসিধে'। বাংলাদেশে যে ক'জন নিঃস্বার্থ রাজনীতিবিদ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে গেছেন, বরুণ রায় তাদের অন্যতম। স্বপ্ন তার একটাই ছিল, মেহনতী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। সুদিন আসবে বাংলাদেশের। যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন হয়েছিল এই দেশ যে প্রত্যয় নিয়ে আমরা অর্জন করেছিলাম বিজয়। বরুণ রায় দেহত্যাগ করেছেন। কিন্তু তার স্বপ্ন থেকে গেছে এই দেশের প্রতিটি মজলুম মানুষের প্রাণে প্রাণে। তার আদর্শ কোটি তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। বরুণ রায় যেদিন চিরবিদায় নিয়েছেন, সেদিনই ৮ ডিসেম্বর ২০০৯ বাংলাদেশে ঘটে গেছে ভোগবাদী রাজনীতির একটি বিবর্তনধর্মী ঘটনা। হ্যাঁ, তা বিবর্তনই। আর তা হচ্ছে বংশ পরম্পরায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রাখার সম্মেলন সনদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল 'বিএনপি'র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। সাবেক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তিনি। বর্তমানে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। বিএনপি'র কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি একটি ভিডিও ভাষণও দিয়েছেন। সেখানে তিনি 'যোগ্য নেতৃত্ব' নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। কাউন্সিলররা শেষ পর্যন্ত তার কথা শুনে 'যোগ্য নেতৃত্ব' নির্বাচন করেছেন। বিএনপি'র দ্বিতীয় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করেছেন তাকে। আগামী ক'বছরের মধ্যে তারেক রহমান যে বিএনপি'র চেয়ারপারসন হচ্ছেন, তা সময়ের ব্যাপার মাত্র। হ্যাঁ, তিনি এতদিন নেপথ্য নায়ক ছিলেন। এখন সামনে আসছেন। বিদেশ থেকে ফিরে আসবেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। সেটাও প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপি বেগম খালেদা জিয়াকেই সর্বময় ক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করবেন। মোটকথা এই জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের অভিষেক হয়েছে, সেটাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাওয়া। বিএনপি'র জাতীয় কাউন্সিলে অন্যতম অতিথি ছিলেন একাত্তরের ঘাতকদের নেতা, আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী। তাকে বেশ খোশমেজাজেই দেখা গেছে কাউন্সিলে। নিজামী-মুজাহিদের সঙ্গে তারেক রহমানের বেশ সখ্য ছিল, জাতি ২০০২-২০০৬ সালের বিভিন্ন জনসভায় দেখেছে। তারা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশে রাজনীতি করেন। যেমনটি রাজাকার শাহ আজিজ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খান এ সবুরদের পাশে রেখে রাজনীতি করতেন জিয়াউর রহমান।
দুই.
সেই মাওলানা নিজামী আরেকটি 'জোশে'র বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীর নজর কেড়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধারাধীদের বিচার করা নাকি ইসলাম বিরোধী।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজামী মূলত নরহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনকে জায়েজ করে নেয়ার ধৃষ্টতা দেখালেন মতিউর রহমান নিজামী। আমার জানতে ইচ্ছে করে, কোন ইসলাম ধর্মের কথা বলছেন নিজামী? তা যদি মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর প্রচারিত ইসলাম ধর্ম হয়ে থাকে তবে সেই ইসলাম ধর্ম তো কখনই নরহত্যা, গণহত্যাকে কবুল করেনি। বরং মহানবী (সাঃ) এর আদর্শ থেকে আমরা জেনেছি, কেউ যদি অন্যায়ভাবে তোমাকে আক্রমণ করে, তবে তার হাত গুঁড়িয়ে দাও।
নিজামী বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের এভাবে মিথ্যা বলে প্রতারিত করতে চাইছেন কেন? এসব আবোল-তাবোল বলার মাধ্যমে তারা যে নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন তা কি ভুলে গেছেন নিজামী?
একাত্তরে রাজাকার আলবদর বাহিনী বাংলাদেশে কি করেছে, তা দেশবাসী ভুলে যাননি। তারা ভুলে যাননি, সেই হীন চক্রান্তকারীদের কথা- যারা ছড়িয়ে দিয়েছিল বিভীষিকাময় সময়ের প্রবাহ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, একটি চরম কঠিন সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আরেকটি বিজয় দিবস পালন করছে বাংলাদেশ। যে সময়ে ষড়যন্ত্র চলছে ঘরে বাইরে। দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থামিয়ে দেয়ার আন্তর্জাতিক চাপ, বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের উস্কানি শঙ্কিত করে তুলেছে বাংলাদেশের প্রান্ত জনপদ।
সম্প্রতি ভারতের উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়াকে গ্রেফতার নিয়ে নানা কথা আসছে মিডিয়ায়। উলফার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাকে বাংলাদেশে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভারত সফরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক তখনই এমন একটি ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে কি ভারতের কাছ থেকে কোন আনুকূল্য পাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার এমনটি করেছে? ইতোমধ্যে ভারতের উগ্রবাদী গ্রুপগুলো বাংলাদেশের সরকারকে নানা হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধী-বন্দিবিনিময় চুক্তি সম্পন্ন করে তারপরই 'অপরাধী বিনিময়' কাজটি করা যেত। বাংলাদেশ সে পর্যন্ত অপেক্ষা করল না কেন?
বাংলাদেশের বেশকিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী, অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছে অথবা ভারতের কারাগারে রয়েছে বলে আমরা সংবাদ দেখছি। কই, ভারত তো তাড়াহুড়ো করে এমন কোন সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি। তবে কি বাংলাদেশের সরকার কোন ভুল করছে? ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের মানুষের কাছে খোলাসা করা দরকার। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নানা দিক থেকেই চাপের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই ক্ষমতাসীনদের সবসময় থাকতে হবে গণমানুষের আত্মবিশ্বাসের কাছাকাছি। কারণ এর বিকল্প কোন শক্তি নেই। মহান বিজয়ের মাসে সঠিক পথ চলার প্রত্যয়ই দিতে পারে আগামী দিনের উজ্জ্বল নির্দেশনা।
তিন
ঘাতকরা এই দেশে এখনও সক্রিয়। তারা চেয়েছিল একটি জাতিসত্তার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে। তাদের সামনে ছিল একটা গোপন পরিকল্পনা। বাঙালী জাতি যেন মেরুদ্ন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে । সেই লক্ষ্যে এসব ঘাতকরা সহস্রাধিক বুদ্ধিজীবিকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। খুবই বেদনার কথা , এই হত্যাকান্ডের সুবিচার আজ পর্যন্ত হয়নি । আমাদের মহান বিজয়ের পর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনেক স্বজন , হত্যার বিচার দাবি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। অনেকের দায়ের করা মামলার বিচারও শুরু হয়েছিল। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সরকার গঠন করে দালাল আইন পুরোপুরি বাতিল করার পর সে বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায়। ইতোমধ্যেই বিচারে যাদের শাস্তি হয়েছিল তারাও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। পরম্পরায় সেসব খুনিরা বিএনপি সরকারের অংশীদার হয়ে ক্ষমতার ভাগ পায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্বজনদের সেই দাবি এভাবেই চাপা পড়ে যায়। ২০০২ সালে পুলিশের সিআইডি বিভাগ, শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাপারে 'ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) এক্ট-১৯৭৩' অনুসারে মামলা হতে পারে কি না, তা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী তা ফাইলচাপা দিয়ে রাখেন। এখনও সে চিঠির ব্যাপারে কোন নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের কাছে আসেনি বলে জানা যাচ্ছে।বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু এ ব্যাপারে বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিচারের ব্যাপারে নতুন করে মামলা করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখছে সরকার। তিনি বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে যারা দেশকে মেধাশূন্য করেছে এবং যারা বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার অবশ্যই হবে, বর্তমান সরকারের আমলেই হবে। এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিচার করতে সরকারকে যদি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল এক্টে মামলা করতে হয় তবে তাও করা হবে।
এসব কথার বাণী শহীদ পরিবারের সসদ্যরা শোনেই যাচ্ছেন।
আর কত শোনবে আশ্বাস এই বাংলাদেশ ?
কেন শহীদ বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচার হবে না ??
| Name | Comments | Date |
| rafi | ভাইজান,আপনার জ্ঞান-গরিমা একেবারে 'এ' ক্যাটাগরির।এতে কোন সন্দেহ নাই।তবে একটা জিনিষ মনে রাখবেন একটা লোভী চক্র ৭১ এ আমাদের আবেগ নিএ খেলা করেছে।এটা সবাই জানে, প্রকাশ করে না।যদি যুদ্ধাপরাধী হয়ে যাই!আজ এই কুশিলবরা সমাজের উচু পদে আসীন।তাদের উচুপদ ৭১ এর ফসল।আর অবশ্যি তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালাল।কিছু বলা যায় না।যদি যুদ্ধাপরাধী হয়ে যাই! তাই ভাই বলি--ভাসা ভসা না দেখে গভীরে তাকান।শোকে কাতর হয়ে যাবেন।সহ্য শক্তি খুব ভাল না হলে আক্ষেপ করার শক্তিও হারিএ ফেলবেন এতে আমি মুটামুটি নিশ্চিত। | 2010-01-17 |
Make your comment here
